EXCLUSIVE ! আমরা অছ্যুৎ নই , অন্ধ কুঠুরিতে রাত কাটছে ওদের - SAIKOTBHUMI

Breaking

Sunday, May 31, 2020

EXCLUSIVE ! আমরা অছ্যুৎ নই , অন্ধ কুঠুরিতে রাত কাটছে ওদের

এই সেই অন্ধকুটুরিতে থাকতে হচ্ছে পরিযায়ীদের।

রাকা পড়িয়ারী ,কাঁথি : আমরা অছ্যুৎ নই ! কয়েকদিন আগে পর্যন্ত বাড়ি ফিরলেই বন্ধুদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা চলত গ্রামে। সঙ্গে থাকত চড়ুইভাতি। কিন্তু আজ বাড়ি ফিরতেই দেখি কেমন যেন সব বদলে গিয়েছে। ছোট্ট বেলার বন্ধুরাও কেমন অচেনা হয়ে উঠেছে। কেউ কাছে এসে জানতেও চাইছেনা লকডাউনের মধ্যে কেমন করে কষ্টে দিনগুলো কাটল। তবে গ্রামে ফিরতেই সকলেই যেন তেড়ে বেরিয়ে এসেছেন। সকলের মুখে একটাই কথা ‘ বাইরে থেকে এসেছ এখন ১৪দিন গ্রামের বাইরে থাকতে হবে। ১৪দিন পরে গ্রামে ঢুকতে পারবে। করোনা মারণ ভাইরাস কেমন যেন চেনা মানুষ গুলোকে আজ হঠাৎ করেই অচেনা করে দিয়েছে। যেন মনে হচ্ছে আমরা অছ্যুৎ। সেই কাকুটি যে প্রতিবার বাড়ি ফিরলেই দেখা করতে আসতেন কিংবা সেই বন্ধুটি যে বাড়ি ফেরার কথা জানতে পারলেই আগেরদিন থেকে ফোন শুরু করত। তারাই আজ প্রতিবাদী হয়ে উঠেছে। দাবি করছে এখন গ্রামে থাকা যাবেনা। এমনকি রাজ্য সরকার ঘোষনা করার পরেও গ্রামের স্কুলে কোয়ারেন্টাইনেও থাকতে দিলনা কেউ। তাই আপাতত স্থান হয়েছে জ্বানালা বিহীন,বিদ্যুৎ সংযোগহীন একটি অন্ধকার কুটুরি। সেখানেই স্থান হয়েছে আমাদের। কারণ আমরা গ্রামের কাছে আজ পরিযায়ী।

 মারণ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে এমনই চিত্র ফুটে উঠেছে কাঁথি ১ ব্লকের নয়াপুট গ্রাম পঞ্চায়েতের পুরুষোত্তমপুর গ্রামে। এই গ্রামেরই তিনজন যুবক রাজীব হালদার,শংকর বানিয়া,জয়ন্ত মাইতি(সকলের নাম পরিবর্তিত) কর্মসূত্রে বোম্বে থাকত। কয়েকদিন আগে তারা বাড়ি ফিরেছে। গ্রামে প্রবেশ করতেই সকলে করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। ফলে গ্রামের বেশ কয়েকজন বেরিয়ে বাড়িতে থাকার প্রতিবাদ জানায়। এমনকি গ্রামের স্কুলে কোয়ারেন্টাইনে থাকার উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করেন গ্রামের কতিপয় মানুষ। পাশাপাশি তাদের পরিবারকে জানিয়ে দেওয়া হয় পরিযায়ীদের কোথায় কোয়ারেন্টাইন করবেন সেটা পরিবারের লোকেরাই ঠিক করবেন। কোনভাবেই গ্রামের সংস্পর্শে থাকা যাবেনা। তাই গ্রাম থেকে দুরে একটি অর্ধনির্মিত দোকান ঘরের মধ্যে পলিথিন ঘিরে গ্রামের তিনজন পরিযায়ী শ্রমিকের থাকার ব্যবস্থা করেন পরিবারের লোকেরা। যার না আছে কোন জ্বানালা, না আছে বিদ্যুতের ব্যবস্থা। অর্থাৎ অন্ধকার কুটুরির মধ্যেই দিন কাটাতে হচ্ছে গ্রামের তিন পরিযায়ী যুবককে।সেখানেই তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে খাওয়ার দিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

        কিন্তু কেন এত নির্মমতা প্রশ্ন তুলেছেন বুদ্ধীজীবীরা। যেখানে পরিযায়ী শ্রমিকরা যারা রাজ্যের বাইরে থেকে নিজের এলাকায় ফিরছেন তাদের কোয়ারেন্টাইন করার জন্যে সরকারিভাবে ঘোষনা করা হচ্ছে স্থানীয় স্কুলকে ব্যবহার করার জন্যে। সেখানে কেন এমন নির্মমতার ছবি ফুটে উঠেছে। শুধু তাই নয় যারা পরিযায়ী তাদের লালারস পরীক্ষার পরে নেগেটিভ হলেই বাড়িতে প্রবেশ করতে পারবেন বলেও জানানো হচ্ছে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে। তাছাড়া যারা আজ পরিযায়ী তারা কয়েকদিন আগেওতো আপনাদের পাড়ার ছেলে ছিল। আপনারাই তো একসঙ্গে বসে আড্ডা দিতেন। আজ এতটাই পর হয়ে গেল যে গ্রামের বাইরে তাদের নির্বাসন দিতে হল। ছোট্ট কুটরির মধ্যে বসে এক পরিযায়ী শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে এমনই মন্তব্য করেন। পরিযায়ী শ্রমিকেরা জানালেন, ট্রেনে যেভাবে গাদাগাদি করে পরিযায়ীদের নিয়ে আসা হচ্ছে সেখানে সামাজিক দূরত্ব তো দূরের কথা এক জনের করোনা থাকলে ট্রেনে সকলেরই সংক্রমণ ঘটবে। ফলে আমরা নিজেরাও আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।  
 তবে নয়াপুট গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান অসিত গিরি জানান, আমাদের নজরে বিষয়টি নেই। পরিবারের লোকেরা কিছু জানায়নি। পঞ্চায়েতের উপরেই কোয়ারেন্টাইনের ব্যবস্থা রয়েছে। ওখানেই থাকতে পারে সকলে।




Pages