সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার নজির সৃষ্টি করে চলেছে ফেয়ার ফিল্ড এক্সেলেন্স - SAIKOTBHUMI

Breaking

Saturday, May 30, 2020

সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার নজির সৃষ্টি করে চলেছে ফেয়ার ফিল্ড এক্সেলেন্স



সংবাদদাতা : 'অভাবে নয় মেধার বিলুপ্তি' এই আপ্তবাক্য কে সামনে রেখে ২০১২ সাল থেকে পথচলা শুরু ফেয়ারফিল্ড এক্সেলেন্সের। ২০১২ সাল থেকে নিরবিচ্ছিন্নভাবে আর্থিক ভাবে পিছিয়ে পড়া মেধাবীদের জন্য পাঠ্যপুস্তক ও পাঠ্য সামগ্রী বিতরন, স্টাডি সেন্টার নির্মাণ করে শিক্ষা প্রদান, কিছু বিদ্যালয়ে বুক ব্যাংক তৈরি করা বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে পাঠরত কিছু ছাত্র-ছাত্রীদের নির্বাচন করে স্কলারশিপ প্রদান করে চলেছে এই সংস্থা।

     সংস্থার পক্ষ থেকে ফেয়ারফিল্ড স্টাডি সেন্টার চলছে তিনটি- একটি কাজিবসানে, একটি প্রতাপপুরে ও আর একটি গোপালচকে। যেখানে প্রায় ৭০ জন ছাত্রছাত্রীকে পাঠদান করা হয়। ফেয়ার ফিল্ড এক্সেলেন্স স্কলারশিপ পেয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে ১৪ জন ছাত্র-ছাত্রী। যাদের পড়াশোনার সম্পূর্ণ বা আংশিক ব্যয়ভার গ্রহণ করেছে এই সংস্থা। শুরু থেকে আজ পর্যন্ত শিক্ষাক্ষেত্রেই যাবতীয় কাজকর্ম করে চলেছিল এই সংস্থা কিন্তু সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাসের হানা, লকডাউন এবং আমফান ঘূর্ণিঝড় জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

    এই পরিস্থিতিতে সংস্থা শুধুমাত্র শিক্ষা ক্ষেত্রে আবদ্ধ না থেকে, মানুষের খাদ্য ও অস্থায়ী বাসস্থান নির্মাণ করে বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে চলেছে। লকডাউন পরবর্তী সময়ে প্রায় তিন শতাধিক পরিবারের হাতে এক সপ্তাহের খাদ্য সামগ্রী তুলে দিয়েছে এই সংস্থার সদস্যরা। আমফান দুর্গত এমন অনেক পরিবারকে বাঁশের কাঠামোয় ত্রিপল দিয়ে মাথা গোজার আশ্রয় তৈরি করে দিচ্ছে ফেয়ার ফিল্ড এক্সেলেন্স। ঈদের দিন থেকে আজ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী মাজিলাপুর, আলাদারপুট, বাঁকিপুট, গোপালপুর, সরস্বতীপুর, কানাইচট্টা, সরদা, প্রতাপপুর, হরিপুর ইত্যাদি গ্রামে ৬৬ টি দুর্গত পরিবারের মাথা গোঁজার আশ্রয় তৈরি করে দিয়েছে সংস্থার সদস্যরা।
সংস্থার ডাকে সাড়া দিয়ে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন অসংখ্য মানুষও। কলকাতার ব্যবসায়ী নির্মল জালান বলেন "ফেয়ার ফিল্ড এক্সেলেন্স যেভাবে কাজ করে চলেছে তা অতুলনীয়।  প্রথম থেকে আমি এই সংস্থাকে যতটা সম্ভব সাহায্য করে চলেছি। আমফানে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য ত্রিপল সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছি"। সংস্থার সদস্য দিল্লি আইআইটির অধ্যাপক অনন্ত মাজী, হংকং ইউনিভার্সিটির পোস্ট ডক্টরেট রিসার্চ ফেলো সম্বুদ্ধ ভট্টাচার্য বলেন "ফেয়ার ফিল্ড এক্সেলেন্স দীর্ঘদিন ধরেই দুঃস্থ মেধাবীদের জন্য কাজ করে চলেছে। লকডাউন ঘোষণার পর থেকে দুঃস্থ মানুষকে সাহায্যও করছে। এখন আমফান দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে আমাদের মত অনেকেই এগিয়ে আসছে।" সংস্থার সম্পাদক সনাতন জানা ও সভাপতি তেহেরান হোসেন বলেন- "সংস্থার সদস্যরা ছাড়াও শুভবুদ্ধি সম্পন্ন বহু মানুষই আমাদের কাজে উৎসাহ দেখাচ্ছেন। কলকাতা সহ রাজ্য ও ভিনরাজ্যের অনেক মানুষ এর জন্য অর্থ সাহায্য করছেন, কেউ ত্রিপল সংগ্রহ করে পাঠাচ্ছেন।"


Pages