একে লক ডাউন তার উপর ঘূর্ণিঝড়, দুইয়ের মাঝে সমস্যায় পূর্ব মেদিনীপুরের চিংড়ি চাষীরা - SAIKOTBHUMI

Breaking

Sunday, May 24, 2020

একে লক ডাউন তার উপর ঘূর্ণিঝড়, দুইয়ের মাঝে সমস্যায় পূর্ব মেদিনীপুরের চিংড়ি চাষীরা



দেবাশীষ মান্না,কাঁথি : একে করোনা ভাইরাসের কারনে চলছে লকডাউন তার উপরে আমফান ঘূর্নিঝড়। এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার চিংড়ি চাষীদের।
বিজ্ঞাপন

 এমনিতেই লকডাউনের ফলে বিপাকে পড়ে আধিকাংশ চিংড়ি চাষীরা এবার চাষ করা বন্ধ করে দিয়েছেন। গতবারের তুলনায় এবার ৩০শতাংশ চিংড়ি চাষ হয়েছে। যেখানে প্রতিবার প্রায় ১৫হাজার হেক্টারের বেশি জমিতে চিংড়ি চাষ হয়ে থাকে সেখানে করোনা সংক্রমনের জেরে লকডাউন জারি হওয়ার ফলে প্রায় ৪হাজার হেক্টর জমিতে চিংড়ি চাষ হয়েছে। ফলে চিংড়ি মাছের ঘাটতি দেখা দেবে। তবে যারা চাষ করেছেন তারা খুব একটা ক্ষতির মুখে পড়বে না। এমটাই আশাছিল চিংড়ি চাষীদের। কিন্তু মাঝে এসে পড়ল ‘আমফান’ ঘূর্নিঝড়।যারফলে বৃষ্টিও হয়েছে ব্যপক। ফলে চিংড়ি খামারগুলোতে থাকা অস্থায়ী খড়ের চালাগুলি যেমন নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তেমনই খামারের জলে মিশেছে বৃষ্টির জল। কোথাও কোথাও আবার বৃষ্টির ফলে খামার উপচে চিংড়ি বেরিয়ে গিয়েছে। শুধু তাই নয় বৃষ্টির জল মিশে যাওয়ার ফলে চিংড়ি মাছে রোগ সংক্রমণ ঘটতে পারে। চিন্তায় রয়েছে চিংড়ি চাষীরা। বিশেষজ্ঞদের দাবি, চিংড়ি কামারে বৃষ্টির জল মেশার ফলে অ্যামোনিয়াম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা যেমন রয়েছে তেমন অক্সিজেন বেড়ে যাওয়ার যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
 তাছাড়াও অনেকরকম সংক্রমণ ঘটতেপারে বলে অনুমান বিশেষজ্ঞদে। পাশাপাশি পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় উৎপাদিত চিংড়ি ভিনদেশে ব্যপকভাবে রপ্তানি হয়ে থাকে। সেখানে থেকেই প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও আমদানি হয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে বিদেশেও সেভাবে রপ্তানি সম্ভব নয়। তাই বৈদেশিক মুদ্রা আসাও বন্ধ। ফলে জেলার অর্থনীতি ব্যপক প্রভাব পড়বে বলে দাবি অর্থনীতিবীদের। ফলে চরম চিন্তার ছাপ পড়েছে চিংড়ি চাষীদের মধ্যে। কাঁথি দেশপ্রাণ পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতি তরুন জানা জানান, চিংড়ি এবার তুলনামূলক কম চাষ হয়েছে। তার উপর ঘূর্নিঝড় ব্যপক প্রভাব ফেলেছে। 
বিজ্ঞাপন
যারফলে চিন্তা বাড়িয়েছে চিংড়ি চাষীদের। চিংড়ি চাষীদের সংগঠনের পক্ষে মদনমোহন মন্ডল জানান, এবার লকডাউনের ফলে জেলায় ৩০শতাংশ চিংড়ি চাষ হয়েছিল। তারউপর ঝড়ের প্রভাবে ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষীরা। বৃষ্টির জল খামারের মধ্যে ঢুকে যাওয়ায় যেকোন মুহুর্তে রোগ ধরতে পারে মাছে। তাই চিন্তার কোন শেষ নেই। অনেকে আবার চিংড়ি চাষের জন্যে খামার সবে তৈরি করছিলন। তাদেরও সব নষ্ট হয়ে গিয়েছে।   
        
                                    বিজ্ঞাপন

Pages