ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত নন্দীগ্রাম পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী - SAIKOTBHUMI

Breaking

Saturday, May 23, 2020

ঘূর্ণিঝড়ে বিধ্বস্ত নন্দীগ্রাম পরিদর্শন করলেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী


দেবাশীষ মান্না,কাঁথি  : ‘আমফান’সুপার সাইক্লোনের ফলে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়া ও নন্দীগ্রাম এলাকা ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকা ও জেলার অন্যান্য ব্লকেও অমফানের ব্যপক প্রভাব পড়ে। শনিবার রাজ্যের পরিবহণ,সেচ ও জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের আমফান বিধ্বস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন।তিনি প্রথমে হরিপুর কৃষাণমান্ডীতে উপস্থিত হয়ে নন্দীগ্রামের সাতজন শহীদ মুসলিম পরিবারের হাতে রমজানের উপহার তুলেদেন।

 পাশাপাশি কালিচরণপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নাগচিরাচর গ্রামে হাজির হয়ে ঘূর্নিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৩৪টি পরিবারের হাতে ত্রাণ ত্রিপল,চাল,ডাল সহ অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী তুলেদন মন্ত্রী। এরপর সোনাচূড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা ঘুরে দেখেন মন্ত্রী। সেখানে গাংড়া বালিপোস্তা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে বিধ্বস্ত ৩২৫টি পরিবারের হাতে ত্রিপল ও ত্রাণ সামগ্রী তুলে দিয়েছেন। নন্দীগ্রাম ১ ও ২ নম্বর ব্লকে ক্ষয়ক্ষতির সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। কথা বলেন ব্লক প্রশাসনিক কর্তাদের সংঙ্গে। মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বলেন, ঝড়ে বিধ্বস্ত নন্দীগ্রামের বিস্তীর্ন এলাকা। এখানে কয়েক হাজার মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। প্রাথমিকভাবে তাদের চাল,ডাল,ত্রিপল পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে। আগামী সমীক্ষার ভিত্তিতে অসহায় মানুষদের আরো ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুতের সুরাহা করা যায় তার তৎপরতা করা যায় তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানীয় জলের সংকট দেখা দিয়েছে। কারণ, এখন সকলেই বিদ্যুতের মাধ্যতে সাবমার্শিবেলের মাধ্যমে জল তোলেন। তাই তিনি নির্দেশদেন জেনেরেটর বসিয়ে জল তোলার ব্যবস্থা করার জন্যে। পঞ্চায়েত না পারলে তিনি আর্থিক সহযোগিতা করবেন। উপস্থিত ছিলেন মহকুমা পুলিশ আধিকারিক তন্ময় মুখোপাধ্যায়,নন্দীগ্রাম বিধানসভা তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির চেয়ারম্যান মেঘনাদ পাল,জেলা পরিষদ সদস্য প্রণব মহাপাত্র প্রমুখ।    

          প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রাম ১ নম্বর ব্লকে ‘আমফান’ ঘূর্নিঝড়ে ৩৮হাজার মাটির বাড়ি ভেঙেছে। এরমধ্যে সম্পূর্ন ভেঙেছে ২৫হাজার ৩৩৭টি মাটির বাড়ি এবং আংশিক ভেঙেছে ১২হাজার ৮৪৬টি। নন্দীগ্রাম ২ ব্লকে মোট মাটির বাড়ি ভেঙেছে ২২হাজার। এরমধ্যে সম্পূর্ন ভেঙেছে ১৫হাজার ৩২৬টি এবং আংশিক ভেঙেছে ৬৮৩টি। পাশাপাশি হলদিয়া পুর এলাকায় ২৭হাজার মাটির বাড়ি ভেঙেছে। ৭হাজার মানুষ এখনও ত্রাণ শিবিরে রয়েছেন। তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে পুরসভার পক্ষ থেকে।


Pages