মানবিক! রক্ত সংকটের দিনে থ্যালাসেমিয়া রোগীকে রক্ত দিলেন চিকিৎসক - SAIKOTBHUMI

Breaking

Sunday, April 5, 2020

মানবিক! রক্ত সংকটের দিনে থ্যালাসেমিয়া রোগীকে রক্ত দিলেন চিকিৎসক




নিজস্ব সংবাদদাতা : লকডাউন চলছে রাজ্যে। রক্তদান শিবির বন্ধ হয়ে গিয়েছে বেশ কয়েকদিন। ফলে রক্তের যোগান নেই ব্লাড ব্যাঙ্কগুলিতে । তাই মুমূর্ষ থ্যালাসেমিয়া রোগীকে রক্তদিয়ে মানবিকতার নজির গড়লেন কাঁথি ব্লাড ব্যাঙ্কের মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ সৌম্য ঘোষ।



         পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি এলাকার বাসিন্দা অপু দাসের ছেলে অরুপ দাস(১৪) থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত। তাই প্রত্যেক ১০দিন অন্তর অরুপের শরীরে রক্তের প্রয়োজন হয় বাবা অপু ছেলেকে ১০দিন অন্তর কাঁথি মহকুমা হাসাপাতালে নিয়ে এসে রক্তদেন। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে রাজ্যে চলছে লকডাউন। ফলে সমস্ত রক্তদান শিবির বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কাঁথি ব্লাড ব্যাঙ্কেও রক্তের যোগান নেই। এমনিতেই গরম পড়লে রক্তের চাহিদা বাড়ে। রক্তদান শিবির না হওয়ায় রক্ত সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে যান চলাচলও বন্ধ। ফলে ১৫দিন পেরিয়ে গেলেও অরুপের শরীরে রক্ত দেওয়া সম্ভব হয়নি তার বাবার। কিন্তু ছেলে ক্রমশ অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে দেখে বাবা ছেলেকে নিয়ে সাইকেলে করে ৪০কিলোমিটার রাস্তা পেরিয়ে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে এসে পৌঁছায়। 


      ছেলেকে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তিও করেন। কিন্তু ব্লাড ব্যাঙ্কে নেই রক্ত। এদিকে সাইকেল করে সুদুর খেঁজুরি থেকে এসেছেন ছেলেকে নিয়ে। কী করবেন ? কোথায় যাবেন ? কোথায় পাবেন রক্তদাতা কে ? এমন সব চিন্তা নিয়ে হাসপাতালে আসা একেরপর এক রোগীর আত্মীয়দের হাতজোড় করে আবেদন জানান রক্ত দিয়ে তার ছেলের প্রাণ বাঁচানোর জন্যে। কিন্তু তাঁর কথায় কেউ কর্ণগোচরই করেনি। পাশ কাটিয়ে একেরপরএক মানুষেরা চলে গিয়েছেন। এমনসময় ব্লাড ব্যাঙ্কের এক কর্মী মারফৎ মেডিক্যাল অফিসার(এমও) ডাঃ সৌম্য ঘোষ বিষয়টি জানতে পারেন। রক্ত না পেয়ে আরো অসুস্থ হতে থাকে অরুপ। রবিবার কাঁথি থানার উদ্যোগে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। সেখান থেকে রক্ত এসে তা পরীক্ষা করে রোগীর শরীরে দিতে বেশ কয়েকঘন্টা দেরি হয়ে যাবে। তাই অরুপের রক্তের গ্রুপের সঙ্গে নিজের গ্রুপের রক্তের গ্রুপ মিলে যাওয়ায় তিনি নিজেই রক্ত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। সেইমত অরুপের বাবাকে ডেকে পাঠান এবং বেডে ঘুমিয়ে রক্ত দেওয়া শুরু করেন। ডাঃ সৌম্য ঘোষ জানান, ছেলেটি রক্ত না পেয়ে ধীরেধীরে অসুস্থ হয়ে পড়ছিল। তাছাড়া রক্তের যোগান না থাকায় তার বাবা সাইকেলে করে খেঁজুরি থেকে এসেছেন কোথায় বা যাবেন রক্ত খুঁজতে। তাই নিজেই রক্ত দিলাম।




Pages