লকডাউন ! অবসাদে মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের - SAIKOTBHUMI

Breaking

Thursday, April 2, 2020

লকডাউন ! অবসাদে মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের




নিজস্ব সংবাদদাতা,ভগবানপুর : লকডাউন! বাড়ি ফিরতে না পারায় অবসাদে হরিয়ানায় মৃত্যু ভগবানপুরের পরিযায়ী শ্রমিকের। বুধবার রাত ১টা নাগাদ সহকর্মীরা দেখতেপান রুমের সামনে থাকা গাছে ঝুলন্ত দেহ। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানায়। খবরপেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়।

     মাস তিনেক আগে ঠিকাদারের হয়ে সুদুর হরিয়ানায় নির্মাণ কাজে যান পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর থানার মহম্মদপুর গ্রামের বাসিন্দা বকুল সাউ। বয়স ৫৯ বছর। বুধবার সন্ধ্যায় বাড়িতে ফোন করে স্ত্রী,ছেলের সঙ্গে ফোন করে কথা বলে বাড়ি ফিরতে না পারায় নিজের অবসাদের বিষয়টি জানান। লকডাউনের ফলে বন্ধ বাস, বন্ধ ট্রেন। কিভাবে, কবে বাড়ি ফিরবেন বা আদৌ ফিরতে পারবেন কিনা এই চিন্তায় ছিলেন গত কয়েক দিন ধরে এমটাও তিনি পরিবারকে জানিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন তার ছেলে জয়দেব সাউ। কিন্তু রাত্রি১.৩০মিনিট নাগাদ ফোন আসে বকুল বাবুর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। ভিন রাজ্যে আটকে পড়া শ্রমিকের আত্মহত্যার খবরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায়। হঠাৎ করে দেশজুড়ে লকডাউন হয়ে যাওয়ায় বকুল বাবু সহ ৫০জন জেলারই নির্মান শ্রমিক আটকে পড়েন হরিয়ানার কাসোলা এলাকায়। আটকে যাওয়ার পর থেকে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন তিনি। এমনকি শারীরিক ভাবেও কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সহকর্মীরা তাকে চিকিৎসাও করান। ইসিজি করানো হয়। কয়েকদিন ভালো ছিলেন বলে জানান হরিয়ানায় থাকা সহকর্মীরা। কিন্তু হঠাৎ কি যে হয়ে গেল তা আর টের পাননি কেউই। জানাগিয়েছে, একটি ঘরে তিনজন সহকর্মী তাকতেন। এদিন রাতে খাওয়াদাওয়া শেষ করে সকলের সঙ্গে কথা বলে ঘুমোতে যান। অন্য এক সহকর্মী রাতে উঠে ঘরের বাইরে বেরান শৌচকর্ম করার জন্যে। তখনই তার চোখে পড়ে গলায় গামছা জড়ানো অবস্থায় গাছে বকুল বাবুর দেহ ঝুলছে। প্রতিবেশী তথা হরিয়ানায় থাকা সহকর্মী অশোক সাউ জানান, তিনি কয়েকদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। আমরা সকলেই মিলে চিকিৎসক দেখাই। ইসিজি করানো হয়। তিনি ভালো ছিলেনও। রোজ তার সমস্যার কথা বলেন কিন্তু কাল কিছুই বলেননি। তারপর কি যে হল কিছুই বুঝতে পারলাম না।



Pages