ফাঁদে পা দেবেন না ! এখনই সতর্ক হতে পড়ুন প্রতিবেদনটি - SAIKOTBHUMI

Breaking

Thursday, March 5, 2020

ফাঁদে পা দেবেন না ! এখনই সতর্ক হতে পড়ুন প্রতিবেদনটি



ক্রাইম নিয়ে আমাদের বিশেষ প্রতিবেদন রইল আপনাদের জন্যে।ভালো লাগলে কমেন্ট করে জানান। এমনই অনেক  ক্রাইমের খবর আমরা তুলে ধরব আপনাদের জন্যে। আপনার এলাকার কোন ক্রাইম সংক্রান্ত খবর থাকলে আমাদের জানান এই হোয়াটসঅ্যাপে। ক্লিক করুন Whatsapp



রাকা পরিয়ারী :  রান্নার গ্যাস শেষ? বাড়িতে বসে মোবাইলে টোল ফ্রি নম্বরে ফোন করে সহজেই গ্যাস সিলিন্ডার বুকিং করে দিলেন। গ্যাসের বহনকারী যুবক বাড়িতে এসে গ্যাস সরবরাহ করে দিয়ে গেল। বাড়িতে সরবরাহ করা বা হোম ডেলিভারী ব্যবস্থা চালু হওয়ায় আমাদের ছুটির দিনের চাপ অনেকটাই কমে গিয়েছে। ফোনে গ্যাস সিলিন্ডার বুক করলাম আর বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ করে দিয়েগেল সেই সঙ্গে গ্যাস সিলিন্ডার বাবদ টাকাও নিয়ে গেল। ফলে গ্যাস সিলিন্ডার বাড়িতে বয়ে আনার কোন ঝুঁক্কি–ঝামেলা রইল না আর সময়টাও বাঁচল। কোন কোন ক্ষেত্রে হোমডেলিভারী করতে আসা যুবকেরা গ্যাস সিলিন্ডারকে ওভেনের সঙ্গে সংযোগও করিয়ে দিয়ে যান।

 এখানেই রয়েছে বড় ফাঁদ ! কিভাবে জানতে প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন। দয়াকরে এখনই সজাগ হন ।

                 কখনও গ্যাস সিলিন্ডার বাড়িতে আসার পরে তা পরিমাপ করে দেখেছেন? গ্যাস সিলিন্ডারের গায়ে লেখা ১৪.৫কেজি আসলে সিলিন্ডারের ভেতরে এই পরিমাণ গ্যাস রয়েছে কি না? আপনি যদি পরিমাপ করে দেখেন সিলিন্ডারে গ্যাস কত রয়েছে। দেখবেন ২–৩কেজি আবার কোন কোন ক্ষেত্রে এর বেশিও কম থাকতে পারে। তাই গ্যাস সিলিন্ডার বাড়িতে বসে বুকিং আর হোম ডেলিভারী করিয়ে হাল ছাড়বেন না। আপনার দেওয়া এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস চুরি করে কোথাও ছোট সিলিন্ডার কোথাও আবার গ্যাস শূন্য বড় সিলিন্ডার ভর্তি করে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। আপানার থেকে গ্যাস চুরি করা হলেও আপনি টেরও পাচ্ছেন না। 
তাই এখনই সতর্ক হতে হবে। গ্যাস সিলিন্ডার নেওয়ার আগে পরিমাপ করে দেখেনিন ওজনে ঠিক রয়েছে কি না। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সহ রাজ্য তথা ভারতবর্ষ জুড়েই এই গ্যাস চুরির চক্র মাথা চাড়া দিয়েছে। গ্রাহকদের এক প্রকার বোকা বানিয়ে দিনর পর দিন গ্যাস চুরি চলছে জোর কদমে। তাই গ্যাস সিলিন্ডার বাড়ি নিয়ে যাওয়ার আগে পরিমাপ করে দেখিনন আপনার গ্যাস ওজনে ঠিক রয়েছে কি না। আর যদি ওজনে কম থাকে তবে তৎক্ষনাৎ গ্যাস সরবরাহকারী এজেন্টের সঙ্গে কথা বলুন। তাতেও কাজ না হলে স্থানীয় থানা কিংবা গ্রাহক পরিষেবা কেন্দ্রে অভিযোগ জানাতে পারেন।


           




           কিভাবে সিল খুলে গ্যাস চুরি করা হয়ে থাকে, দ্যাস সিলিন্ডারের মুখে সিল উপর থেকে টান দিলেই খুলে যায়। তার পরে একটি ছিপি লাগানো থাকে। সেই ছিপিটি খুলে ভর্তি গ্যাস সিলিন্ডারের মুখে পাইপ লাগানো হয়। পাইপের অপর প্রান্তে খালি গ্যাসের সিলিন্ডার লাগানো হলেই ভর্তি গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস খালি গ্যাস সিলিন্ডারে চলে যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয় মেশিনও। পাইপে গ্যাস চুরিতে জীবনের ঝুঁকি থাকলেও মেশিন  লাগিয়ে গ্যাস চুরি করায় তেমন ঝুঁকি থাকেনা। তাই পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বড় বড় গ্যাসের ডোডাউনে মেশিন লাগিয়েই সিলিন্ডার থেকে গ্যাস চুরি করা হয়। পটাশপুর,ভগবানপুর,খেজুরি,এগরা এলাকায় পাইপ লাগিয়েই বেশিরভাগ গ্যাস চুরি করা হয়ে থাকে। তাই প্রতিটি গ্যাসের সিলিন্ডারে ওজনের থেকে থাকে অনেকটাই কম গ্যাস।
    বাজারে ৫,১০ কেজি গ্যাসের ওভেন পাওয়া যায়। যার নিচের অংশ সিলিন্ডার এবং উপরের অংশ ওভেন। এই ওভেনগুলি কিন্তু সরকারি বা বেসরকারি গ্যাস কোম্পানিগুলি গ্যাস ভর্তি করেনা। তাই বাড়িতে রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস নিয়ে ছোট্ট ওভেন গুলোতে গ্যাস ভর্তি করা হয়। যদিও ওজন পিছু সরকারি দামের দ্বিগুন টাকা নেওয়া হয় ছোট্ট গ্যাস সিলিন্ডার ভর্তি করার জন্যে। কাঁথি,দিঘা,রামনগর এলাকায়ও ব্যপক হারে চলছে গ্যাস চুরির রমরমা। সব জানে পুলিশ প্রশাসন। কিন্তু কোন এক অজ্ঞাত কারনে সকলেই মুখে কুলুপ এঁটেছেন।


                তবে এলপিজি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস চুরির অভিযোগ বহুদিনের। গ্রাহকদের অভিযোগ বাড়িতে সরবরাহ করা সিলিন্ডারে অনেক সময়ই নির্দিষ্ট পরিমাণ গ্যাস থাকে না। এবার তাই সেই সমস্যা মেটাতে ও গ্যাস চুরি রুখতে নতুন ধরনের স্বচ্ছ সিলিন্ডার আনার কথা ভাবছে সরকার। ইতিমধ্যেই তেলেঙ্গানার কিছু এলাকায় এই ধরনের সিলিন্ডার ব্যবহার করা শুরু করেছে সেখানকার সরকার।  এই এলপিজি সিলিন্ডারগুলি হবে স্বচ্ছ নীল রঙের। সিলিন্ডারে কতটা গ্যাস রয়েছে তা বাইরে থেকেই দেখা যাবে বলে এই সিলিন্ডার প্রস্তুককারী সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে। ফলে গ্যাস সিলিন্ডার নেওয়ার সময় গ্রহকরা সহজেই গ্যাসের পরিমাণ বুঝে যাবেন। কতটা গ্যাস খরচ হল তাও দেখে নিতে পারবেন। এক্ষেত্রেও   সমস্যা দেখা দিয়েছে । সাধারণ মেটাল সিলিন্ডারের তুলনায় এর দাম পড়বে দ্বিগুনেরও বেশি। সাধারণ সিলিন্ডারের দাম যেখানে ১৪০০ টাকার আশেপাশে থাকে, সেখানে এই ধরনের স্বচ্ছ সিলিন্ডারের দাম পড়বে কমপক্ষে ৩ হাজার টাকা। ফলে, এই বাড়তি টাকা গ্রাহকরা দিতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

আরো খবর পড়তে ক্লিক করুন নিচের লিঙ্কে–

Facebook

Pages