স্কুল পোষাকে অশ্লীল গান, ধিক্কার বাংলাজুড়ে - SAIKOTBHUMI

Breaking

Friday, March 6, 2020

স্কুল পোষাকে অশ্লীল গান, ধিক্কার বাংলাজুড়ে


মালদা ঃ স্কুল পোশাকে বিদ্যালয় চত্বরে সেলফি কায়দায় হাতে মোবাইল নিয়ে নাচের ভঙ্গিমায় অশ্লীল ও কুরুচিকর শব্দ উচ্চারণ করে গান তৈরির ছবি ভাইরালের অভিযোগ উঠেছে মালদার ঐতিহ্যবাহী একটি গার্লস স্কুলের চার ছাত্রীর বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই ছাত্রীদের অশ্লীল শব্দ প্রয়োগ করা গানের ছড়া ভাইরাল হতেই নিন্দার ঝড় উঠে গিয়েছে। মালদার ঐতিহ্যবাহী বারলো গার্লস হাইস্কুলকে ওই চার ছাত্রীর কালিমালিপ্ত করার ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে বিষয়টি জানতে পেরে শনিবার স্কুলের শিক্ষিকাদের নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি ওই চারছাত্রীর ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের সনাক্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ওই চার ছাত্রীর অভিভাবকদের শনিবার বৈঠকে হাজির থাকার কথা জানানো হয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। এই ঘটনায় ওই ছাত্রীর বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও জানিয়েছে জেলার বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন থেকে শিক্ষাবিদ মহল।




স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে,  ওই চার ছাত্রীর মধ্যে তিনজন একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে পাঠরত। আরেকজন একাদশ শ্রেণীর বাণিজ্যিক বিভাগে পাঠরত। মালদা শহরে ওই ছাত্রীদের বাড়ি। রীতিমত স্কুল পোশাকে বিদ্যালয় চত্বরে হাতে মোবাইল নিয়ে তারস্বরে অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে গান করছে ওই চার ছাত্রী। যে গানের শব্দের প্রতিটি অক্ষরে অত্যন্ত অশ্লীল এবং কুরুচিকর বাক্য প্রয়োগ করা হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ছবিতে দেখা যাচ্ছে চোখে সানগ্লাস পরা এক ছাত্রী তার নিজের এন্ড্রুয়েড মোবাইল সেলফি কায়দায় ভিডিও করছে। আর চারজন মিলে অশ্লীল ও কুরুচিকর ভাষায় ক্রমাগত গান করে চলেছে। যা শুনে রীতিমতো হতবাক মালদার শিক্ষক মহল ।

কি করে এত বড় সাহস ওই ছাত্রীদের হলো তা ভেবেও কূল করতে পারছেন না শহরের ঐতিহ্যবাহী ওই স্কুলের শিক্ষিকারা।



বার্লো গার্লস হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষিকা দীপশ্রী মজুমদারের সাফ কথা, ওই ছাত্রীরা যত বড় ঘরেরই হোক না কেন , আমি এর তীব্র নিন্দা করছি। এরকম আচরণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করব না। চার জন ছাত্রীকে ভাইরাল হওয়া ছবি দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে। একজনের অভিভাবককে পাওয়া যায় নি। বাকি তিনজনের অভিভাবকদেরকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে। শনিবার পুরো ঘটনাটি নিয়ে স্কুলে বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রধান শিক্ষিকা আরও জানিয়েছেন , আমাদের স্কুলের একটি অনুষ্ঠান উপলক্ষে হোয়াটসঅ্যাপে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটি গ্রুপ তৈরি করা হয়েছে। সেখানেও ভাইরাল হওয়া এই ছবি দেখেছি।  ওই ছাত্রীদের অভিভাবকেরা আমাকে অনেক রকম ভাবে ক্ষমা চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছিলেন । কিন্তু উনাদের আমি বলে দিয়েছি এটা আমার এক্তিয়ারের বাইরে চলে গিয়েছে।  ওই চার ছাত্রীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাবিদ থেকে ছাত্র সংগঠনের মহলেও চার ছাত্রীর এই কুকীর্তি নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।  অনেকেই বলেছেন, স্কুল চত্বরে গলা ফাটিয়ে যখন এই ধরনের অশ্লীল ভাষা প্রয়োগ করে গান করা হচ্ছিল। তখন কি স্কুলে শিক্ষক-শিক্ষিকারা কেউ ছিলেন না। স্কুল কর্তৃপক্ষরা শুনতে পান নি কেন। সেই সময় তাদের বাধা দেওয়া হল না কেন। এই ধরনের ঘটনায় অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যেও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে । তার দায়ভার কে নিবে । পুরো ঘটনাটি নিয়ে ওই চারছাত্রীর স্কুল থেকে সাসপেন্ড করে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে জেলার বিভিন্ন শিক্ষাবিদ ও ছাত্র সংগঠনগুলি।

Pages