টিম গড়ে সাত দিনেই মহিলা খুনের কিনারা করল জেলা পুলিশ সুপার - SAIKOTBHUMI

Breaking

Monday, March 16, 2020

টিম গড়ে সাত দিনেই মহিলা খুনের কিনারা করল জেলা পুলিশ সুপার



কাঁথি : এগরায় ট্রলি ব্যাগে তরুণীর দেহ উদ্ধারের ঘটনার কিনারা করল পুলিশ। পাশাপাশি মৃত মহিলার পরিচয় উদ্ধার করে পুলিশ। সোমবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপার ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় সাংবাদিক সম্মেলন করে খুনের ঘটনা কিনারা করার কথা জানান। তিনি জানান, মৃত মহিলা অনিতা দে(৩০) দমদমের প্রমোদনগরের বাসিন্দা ছিলেন। পরিচারিকার কাজ করতেন অনিতা। খুনের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জেরা করে খুনের ঘটনার বিস্তারিত তথ্য জানাযাবে। পরিবার সূত্রে জানাযায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণেই প্রেমিকাকে খুনের ছক কষে মূল অভিযুক্ত কলকাতার দমদমের প্রমোদনগরের বাসিন্দা সৌরভ দে। সহযোগিতা করে সৌরভের স্ত্রী মৌমিতা,শ্বশুর নারায়ণ চন্দ্র শী এবং তার বন্ধু রমাকান্ত জানা। ধৃতদের এদিন কাঁথি মহকুমা আদালতে হাজির করা হলে বিচারক ৭দিনের পুলিশী হেফাজেতর নির্দেশ দেন।  কিন্তু ঠিক কী হয়েছিল সৌরভ, তার স্ত্রী মৌমিতা ও প্রেমিকা অনিতার মধ্যে? তা জানতে ধৃত সৌরভ, তার স্ত্রী, শ্বশুর ও তার বন্ধুকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।



 
মৃতার পরিবারের লোকেরা জানান, স্বামী ও দুই সন্তান নিয়ে সংসার ছিল অনিতা নামে ওই তরুণীর। দমদমে আয়ার কাজ করতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে পেশায় টোটোচালক পাশাপশি জিমের ট্রেনারের কাজ করতেন সৌরভ তাঁকে প্রায়ই উত্যক্ত করত। পরবর্তীকালে সৌরভের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে অনিতা। টোটো চালক স্বামী সোমনাথ দাসের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে ছেলে অয়ন ও মেয়ে অদ্বীতিকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে চলে যান ওই গৃহবধূ ।
অভিযুক্তদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আদালত

সেখানে যাতায়াত ছিল সৌরভের। এমনকি সৌরভ বাড়িতে ঢুকলে ছেলে–মেয়েকে ঘরের বাইরে বেরকরে দেওয়া হত বলে অভিযোগ। পরে সৌরভের একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক থাকার বিষয় জানতেপারায় অশান্তি শুরু হয় অনিতার সঙ্গে। সেই সময় বাপের বাড়ি চলে যান তিনি। মাস দুয়েকের সেখানে থাকার পর স্বামীর কাছে ফিরে আসেন অনিতা। কিন্তু সৌরভ আত্মহত্যার ভয় দেখিয়ে নিজের কাছে নিয়ে যায়। ফের মেয়েকে নিয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়ে সৌরভের সঙ্গে ভাড়া বাড়িতে সংসার পাতেন অনিতা এমনই দাবি পরিবারের। সৌরভ যে বিবাহিত তা জানতে পারেন অনিতা। এই নিয়ে শুরু হয় অশান্তি এমনই অভিযোগ উঠেছে। প্রেমিককে ছেড়ে ফের স্বামীর কাছে ফেরার ইচ্ছাপ্রকাশ করেন অনিতা। এরপরই সৌরভ-অনিতার অশান্তি চরমে ওঠে। পুলিশের অনুমান, এরপরই প্রেমিকাকে খুনের ছক কষে সৌরভ।
মৃত মহিলা।

 সেই মতো স্ত্রীর সহযোগিতায় অনিতাকে খুন করে সৌরভ। গত ৯মার্চ সোমবার এগরার কাছে একটি ক্যালভাটের নিচে ট্রলি ব্যাগের মধ্যে থেকে উদ্ধার হয় অনিতার মৃতদেহ। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠায়। মৃতের পরিচয় জানতে শুরু হয় পুলিশী তদন্ত। পুলিশ জানতেপারে, সৌরভ বিয়ে করেছিল এগরার ছত্রী গ্রামের বাসিন্দা যাত্রা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত নারায়ণ চন্দ্র শী–র মেয়ে মৌমিতাকে। অনিতাকে খুন করে ট্রলি ব্যাগে ভরে একটি প্রাইভেট গাড়িতে করে ছত্রী গ্রামে শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে আসে। সেখান থেকে একটি রিক্সায় করে ব্যাগটি নিয়ে গিয়ে এগরা–দিঘা রাজ্য সড়কের পাশে একটি ক্যালভাটের নিচে ফেলে দিয়ে আসে। রিক্সা চালক ছিলেন ধৃত রমাকান্ত জানা। পুলিশী তদন্তে বিষয়টি জানার পরে দমদম থেকে সৌরভ ও তার স্ত্রীকে গ্রেফতার করে। এগরা থেকে বাকি দুইজনকে গ্রেফতার করে। এই চারজনকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি মৃতার নাবালিকা মেয়েকেও উদ্ধার করে পুলিশ। কিন্তু প্রেমিকাকে খুন করতে সৌরভকে সাহায্যের পিছনে কী মোটিভ ছিল মৌমিতা ও তাঁর বাবার? স্ত্রীর চাপেই খুনের পরিকল্পনা নয় তো? এখন এই রহস্য ভেদ করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। যদিও ধৃত মৌমিতা সৌরভের স্ত্রী নয় বলেই দাবি অনিতার স্বামী সোমনাথ ও তার বৌদি অনিমা দাসের। তাদের দাবি, সৌরভ যদি বিবাহিত ছিল তবে কি করে অনিতার সঙ্গে ঘরভাড়া করে থাকত ? এদিন সাংবাদিক বৈঠকের শেষে ধৃতদের গাড়িতে তোলার সময় মৃতার স্বামী ও তার পরিবারের লোকেরা বিক্ষোভ দেখিয়ে চরম শাস্তির দাবি করেন। মৃতার স্বামী সোমনাথ জানান, যেহেতু স্ত্রী ভাড়া বাড়িতে থাকত তাই নিখোঁজ হওয়ার আগে পাইনি। পরে যখন  মোবাইলে ফোন করে দেখি বন্ধ তখনই খোঁজাখুজি শুরু করি। দমদম থানায়ও অভিযোগ জানাই। রবিবার আমাদের এগরা থানা থেকে জানানো হয় অনিতার মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি।



Pages