বাজি না বোমার কারখানা ? কাঁথিতে বিস্ফোরনের স্থল খতিয়ে দেখছে পুলিশ - SAIKOTBHUMI

Breaking

Friday, March 1, 2019

বাজি না বোমার কারখানা ? কাঁথিতে বিস্ফোরনের স্থল খতিয়ে দেখছে পুলিশ


সৈকতভূমি.লাইভ নিউজ ডেস্ক: বাজি না বোমার কারখানায় বিস্ফোরন ঘটেছে তা নিয়ে ধন্দে তদন্তকারী পুলিশ আধিকরিকেরা। কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের পশ্চিম কুশবনি গ্রামে বাজি কারখানায় বিস্ফোরনে প্রায়  চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কেঁপে ওঠে । এমনকি বিস্ফোরনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে তাতে পাকাবাড়ির একটা অংশ উড়ে যায়। যার থেকে অনুমান শুধুমাত্র বাজি কারখানা নাকি বাজির আড়ালে তৈরি করা হত বোমা ? যা নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাওয়া হয়নি।
  বিস্ফোরনে পরে উড়ে যাওয়া বাড়ির অংশ।  

     অবৈধ বাজি কারখানায়  বিস্ফোরণের মত্যু ঘটেছে এক যুবকের। ঘটনাস্থলে আহত হয়ে হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন ৭জন শ্রমিক সহ ৯জন। শুক্রবার দুপুরে বাজি বিস্ফোরনে পরে ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় দেশপ্রাণ ব্লকের পশ্চিম কুশবনি এলাকা ।
      শুক্রবার তখন দুপুর ২.৩০টা । ভয়াবহ বিস্ফোরণে বিকট শব্দে কেঁপে উঠল পশ্চিম কুশবনি এলাকা। এলাকাবাসীরা প্রথমের দিকে বিকট শব্দের কারণ বুঝে উঠতে পারেনি। পরে বিস্ফোরণে ঝলসে যাওয়া ব্যক্তিদের চিৎকারে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধারের কাজে হাত লাগান। খবরদেওয়া হয় কাঁথি থানায় ও দমকল কেন্দ্রে। খবরপেয়ে কাঁথি থানার আইসি সুনয়ন বসু,মহকুমা পুলিশ আধিকারিক এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(গ্রামীণ) সহ পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন।
আহত যুবক


          স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানাগেছে, দেশপ্রাণ ব্লকের পশ্চিম কুশবনি গ্রামের শশাঙ্ক ভূঁঞ্যার দীর্ঘদিনের বাজি ব্যবসা রয়েছে। শুক্রবার শশাঙ্ক বাবু উওর ২৪পরগনা গিয়েছিলেন বাজির অর্ডার দিতে। এদিকে শশাঙ্ক বাবুর নতুন তৈরি পাকার বাড়ির পাশে থাকা একটি ঝুপড়ি ঘরে অবৈধ বাজি মজুত রাখাছিল। সেখানেই অবৈধভাবে বাজি তৈরি করাহত বলেও অভিযোগ। নতুন পাকার ঘরে গ্রীল বসানোর কাজ করছিলেন ৪জন কারিগর। পাশাপাশি কাঠের কাজ করছিলেন ৩জন মিস্ত্রী। এই কাজগুলি দাঁড়িয়ে দেখছিল শশাঙ্ক বাবুর ছেলে সৌরভ ভূঁঞ্যা(২৩)। সেইসময় জানালায় গ্রীল বসানোর সময় আগুনের পুলকি গিয়ে ঝুপড়ি ঘরে থাকা বাজির উপর পড়ে বলে প্রাথমিক তদন্তে দাবি পুলিশের । সেখান থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের কারনে
কর্মরত ৪জন গ্রীল মিস্ত্রী ও ৩জন কাঠের কাজে আসা মিস্ত্রী, ২জন পরিবারের সদস্য এবং  দাঁড়িয়ে নতুন বাড়ির কাজ দেখতে থাকা  শশাঙ্ক বাবুর ছেলে সৌরভ সহ প্রায় ১০জন আগুনে ঝলসে যায়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে ঝুপড়ি ঘরের পাশে  নতুন তৈরি পাকাবাড়ির দেওয়াল সহ ছাদ উড়ে যায়। ঘটনারপরে পর গোটা এলাকার মানুষ আতংকিত হয়ে পড়েন। এর পরেই রক্তে ভেসে যায় ঘটনাস্থল। ঘটনাস্থলে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় বসন্তিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকেই কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় কাঁথি মহকুমা  হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে শশাঙ্ক বাবুর ছেলে সৌরভের মৃত্যু ঘটে বলে চিকিৎসকরা জানায়।
সূত্রের খবর, এই মুহূর্তে প্রায় ৩জন  বসন্তিয়া হাসপাতালে রয়েছেন এবং ৬ জন রয়েছেন কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে। এঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থায় আশংকাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।তবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কিভাবে পুলিশ প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এতপরিমাণ অবৈধ বাজি মজুত রেখেছিলেন শশাঙ্ক বাবু তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে ঘটনার পরে গাঢাকা দিয়েছেন শশাঙ্ক বাবু। বাড়িতে দীর্ঘদিন বাজি তৈরির পাশাপাশি বাজি বিক্রিরমত অবৈধ ব্যবসা করে আসছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। তবে শুধুই অবৈধ বাজি মজুত ছিল না কি অন্যকোন বিস্ফোরক মজুত ছিল তা খতিয়ে দেখছেন পুলিশ আধিকারিকেরা।

     ছবি ও তথ্য - কনিষ্ক মাইতি ও  দেবাশিষ মাইতি 

Pages