বিয়েবাড়িতে আমন্ত্রিতদের হাতে গাছ তুলে দিয়ে নজির গড়ল পাঁশকুড়ার নবদম্পতি - SAIKOTBHUMI

Breaking

Monday, November 26, 2018

বিয়েবাড়িতে আমন্ত্রিতদের হাতে গাছ তুলে দিয়ে নজির গড়ল পাঁশকুড়ার নবদম্পতি


রাজা বন্দ্যোপাধ্যায়,পাঁশকুড়া : বৃক্ষ মানুষের পরম বন্ধু। মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত নানা কর্মকান্ডে বৃক্ষ অবদান রেখে চলেছে। পরিবেশের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র রক্ষার জন্য বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম। আমাদের দেশে গাছপালা, সবুজ-শ্যামলে  ভরা। চারিদিকে শুধু অপরুপ সবুজ আর সবুজ। কিন্তু সেই অপরুপ সবুজের সমারোহ আর নেই। গত কয়েক দশক ধরে নির্বিচারে বনাঞ্চল কেটে উজাড় করা হচ্ছে।  জলাভূমি, সমভূমি, চাষাবাদ ভূমি ভরাট করে বসতি স্থাপন চলছে। কখনও ব্যক্তি স্বার্থে, কখনও প্রকল্প বাস্তবায়নে, আবার কখনও ইট ভাটার জ্বালানি হিসেবে কাটা হচ্ছে গাছ। প্রতিবছর যে পরিমাণ গাছ কাটা হয় সে তুলনায় লাগানো হয় কম। এর ফলে গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যানবাহন কলকারখানা,প্রজ্বলিত আগুন, মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে নির্গত কার্বনডাই-অক্সাইড প্রতিনিয়ত পরিবেশ দূষণ করেছে। গাছ বাতাস থেকে কার্বনডাই-অক্সাইড গ্রহণ করে আর অক্সিজেন ত্যাগ করে বাতাসে অক্সিজেনের পরিমান বাড়িয়ে দেয়। এতে পরিবেশ সুস্থ ও নির্মল রাখে। আর এ অক্সিজেন মানুষের বেচে থাকার জন্য খুবই জরুরী। কিন্তু গাছ কাটার তুলনায় নতুন গাছ লাগানো হচ্ছে কম। এতে পরিবেশ উষ্ণ হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনে বিরুপ প্রভাব পড়ছে। এর ফলে অসময় অনাবৃষ্টি, খরা, অতিবৃষ্টি, প্রচন্ড তাপদাহ, ঘূর্ণিঝড়, বণ্যা, জলোচ্ছাস সহ নানা দুর্যোগ ঘটে চলেছে। জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্থ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। একমাত্র বৃক্ষই প্রকৃতিক পরিবেশ সুস্থ ও নির্মল রাখতে পারে।
       তাই নিজের বউ ভাতে আমন্ত্রিত ব্যক্তির হাতে বৃক্ষ তুলে দিয়ে পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিলেন পাঁশকুড়ার বাহার গ্রামের নবদম্পতি। যা শুধু এলাকাবাসী নয় সাড়া ফেলেছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বুদ্ধিজীবী মহলে। এতদিন আমরা জেনে আসছি বছরে একটি দিন জেলাজুড়ে মহাসমারোহে বনমহোৎসব পালন করা হয় । তারপরে কেটে যায় বছরের দিনগুলি গাছগুলি কেমন আছে কিভাবে আছে তার পরিচর্যা হচ্ছে কি না বেঁচে আছে কিনা ছোট্ট চারা গাছগুলি, তার কোন নজরদারি করা হয় না বলেও অভিযোগ রয়েছে। এদিকে  প্রতিনিয়ত গাছ কেটে ফেলার চাহিদা বাড়ছে মানুষের মধ্যে। যার ফলে সবুজায়ন আজ ধ্বংসের পথে সে কারণে নিজের বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে সবুজায়ন ধ্বংসের প্রতিবাদ জানাতে এবং বৃক্ষরোপনে মানুষকে উৎসাহিত করতে প্রতিটি আমন্ত্রিতের হাতে লেবু গাছ, নিম গাছ,পেয়ারা গাছ সহ একাধিক ফলের গাছ এবং নানা গাছ তুলে দিলেন পাঁশকুড়ার সুব্রত দোয়া ও নম্রতা দুয়া মাইতি। গত শনিবার সুব্রত ও নম্রতার আনুষ্ঠানিক বিবাহ সম্পন্ন হয়। সোমবার বৌভাতের আয়োজন ছিল পাঁশকুড়ার বাংলা মোড় লাগোয়া একটি গেস্ট হাউসে। সেখানেই আমন্ত্রিতের হাতে গাছের চারা তুলে দেয়া হয় যা দেখে প্রতিটি আমন্ত্রিত খুশি হয়ে ওঠেন। আমন্ত্রিত দেবপ্রসাদ মহাপাত্র জানান, আমরা এতদিন বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠানে গিফট নিয়ে যাই নবদম্পতির হাতে তুলে দেওয়ার জন্য। সঙ্গে ভুরিভোজ খাওয়াদাওয়া হয়ে থাকে। কিন্তু এই বিয়ে বাড়িতে এসে গিফট এর বদলে আমন্ত্রিতদের হাতে যেভাবে তুলে দেওয়া হল গাছের চারা তাতে সত্যি খুব খুশির বিষয়। গাছ বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন  হওয়া প্রয়োজন তা এই নবদম্পতি আজ আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে। প্রতিমুহূর্তে গাছের যেভাবে নিধন চলছে তা থেকে বিরত হওয়ার সময় এসেছে । শুধু পেট পুরে খাওয়া টা বড় ব্যাপার নয় এই যে ছোট্ট গাছের চারা প্রতিটি মানুষের হাতে উঠেছে তা থেকে আমাদের সচেতনতা প্রয়োজন ।একটি গাছ একটি প্রাণ এই শ্লোগানকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছে নবদম্পতি।এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আগামী দিনে প্রতিটি অনুষ্ঠানে যেন আমন্ত্রিতদের  হাতে এভাবেই একটি করে চারা গাছ তুলে দেওয়া হয় তাতে করে প্রতিটি মানুষের গাছের প্রতি ভালোবাসা আরো বাড়বে।

Pages